মকবুল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় সভায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর -তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ এমপি, মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু সভা, বৈঠক ও আলোচনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে অপরাধ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সংসদ সদস্য বলেন, বিশেষ করে ফুলপুর ও তারাকান্দা থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়বে। আজ যারা মাদকে জড়িয়েছে, আগামী দিনে তাদের প্রভাবে আমাদের সন্তানরাও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাদকবিরোধী স্বেচ্ছাসেবী কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তারা যেন কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও সতর্ক করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কোনো ব্যক্তি মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে ওই চক্রের পক্ষ থেকে তার ওপর হয়রানি বা প্রতিশোধ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাদকবিরোধী কাজে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় ভালো কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে কেউ মিথ্যা মামলা বা হয়রানির শিকার হলে তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।
তিনি আরও বলেন, একটি থানায় সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে কয়েক লাখ মানুষের ছোট-বড় সামাজিক অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ কারণে সমাজের মানুষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি ভালো উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক কমিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম সক্রিয় করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলাতেও এসব কমিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সার সংকট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃত্রিমভাবে সার সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। দেশে প্রয়োজনের তুলনায় সার সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কিংবা কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই কালোবাজারি বা অবৈধ মজুতের সুযোগ কাউকে দেওয়া যাবে না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ আশরাফুল করিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী-সহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
Leave a Reply