1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাছের অভয়ারণ্যে মৎস্য ভান্ডার বৃদ্ধির উদ্যোগ, মরা ভদ্রা নদীতে বিল নার্সারির পোনামাছ অবমুক্ত কালিয়াকৈরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত সেবার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে মাদক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার -৬ আইনমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেল ‎বাগেরহাটে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর সলিলসমাধি ও ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যু ফেনীতে কোটি টাকার শেয়ার প্রতারণা: ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেশিন বিক্রি করে উধাও পরিচালকরা, অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি ‎যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের সংকটের শঙ্কা নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমের পিক-আপ ডাকাতির সময় গ্রেফতার-৫ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ

বাঞ্ছারামপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ, ৩ দিন ধরে অনাহারে শিশুরা

  • প্রকাশকাল: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গেট আটকে গৃহবন্দী করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খাদ্য সংকটের কারণে পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা গত তিন দিন ধরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির যাতায়াতের পথ ও প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে নারী ও শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

​ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গৃহবন্দী থাকার কারণে ঘরে থাকা জমানো শুকনো খাবারও ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। বাইরে থেকে কেউ খাবার দিতে চাইলেও প্রতিপক্ষের বাধায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবরুদ্ধ শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ওই বাড়ির পরিবেশ।
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর আজ স্বাধীন দেশে নিজের বাড়িতেই অবরুদ্ধ! বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় কান্না করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমাদের রান্নার জায়গা বা যাতায়াতের পথটি ঘিরে ফেলা হয়েছে। আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারছি না। ঘরে ছোট তিনটি বাচ্চা নিয়ে আমরা গত তিন দিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি এবং অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।”

​অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম দাবি করেন, “এই জায়গা আমাদের কেনা। আমরা আমাদের জমিতে বেড়া বা বাধা দিয়েছি। প্রয়োজন হলে পরে তা খুলে দেব।”

​ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নেয়।
​এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “রান্নার জায়গাটি অন্য বাড়ির সীমানায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে, তারা বিষয়টি সমাধান করে দরজা বা যাতায়াত ব্যবস্থা খুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ” বিষয়টি আমরা দেখছি। ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত ঠিকানা পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, ” বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে এমন অমানবিক আচরণ ও শিশুদের অনাহারে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অবিলম্বে এই অবরুদ্ধ অবস্থা নিরসন করে পরিবারটির নিরাপত্তা ও খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ