সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বজ্রপাতে মৃত্যুর দাবি করা হলেও নিহতের শরীরে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন থাকায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড?
নিহত যুবকের নাম সুমন (২৭)। তিনি দৌলতপুর গ্রামের মরহুম হাজী নুর ইসলাম সাহেবের ছোট ছেলে।
শুক্রবার ১৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বজ্রপাতের সময় সুমনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রচার করা হয়। তবে তার মৃতদেহ দেখার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন।
তাদের দাবি, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে শরীরে সাধারণত যে ধরনের ক্ষত বা চিহ্নের সৃষ্টি হয়, সুমনের শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্নগুলো তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্পষ্টতই সেগুলো মারধরের চিহ্ন বলে মনে হচ্ছে।
সুমনের মতো একজন তরুণের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অকাল প্রয়াণে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার সচেতন মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, ঘটনাটি স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে কোনো ‘অশুভ হাত’ থাকতে পারে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে তারা নবীনগর থানা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা
শোকার্ত পরিবার ও এলাকাবাসী ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের জোর দাবি, পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে।
পাশাপাশি ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা কোনো অবস্থাতেই এই রহস্যজনক মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না।
প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তই পারে তাদের পরিবারের এই সংশয় দূর করতে।
Leave a Reply