এম রাসেল সরকার, ঢাকা:
রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সুলতানের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নীরবে বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তার সঙ্গে মাসিক চুক্তি বা ‘মাসোয়ারা’ ছাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় কোনো গণপরিবহন বা মালবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা দিয়ে চলাচলকারী রমজান পরিবহন, অছিম পরিবহন, আসমানী পরিবহন, আশিয়ান পরিবহন, গ্লোরী পরিবহন এবং স্টাফ কোয়ার্টার পরিবহনসহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস কোম্পানি থেকে নিয়মিত মাসিক মাসোয়ারা আদায় করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহনের মালিক ও লাইনম্যান জানান, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে চলাচলকারী প্রতিটি পরিবহন কোম্পানির মালিকপক্ষ প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে মাসোয়ারা দিতে বাধ্য হয়। মাস শেষে এই নির্ধারিত টাকা দিতে সামান্য দেরি হলেই সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। আর এ কাজে টিআই সুলতান এবং তার অধীনস্থ ট্রাফিক সার্জেন্টরা সরাসরি ভূমিকা পালন করেন।”
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মাস শেষে আদায়কৃত এই মাসোয়ারার বড় একটি অংশ সরাসরি টিআই সুলতানের হাতে পৌঁছে যায়। অভিযোগ রয়েছে, আসমানী পরিবহনের পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল জলিল, স্টাফ কোয়ার্টার পরিবহনের পক্ষে মো. সানোয়ার এবং অছিম পরিবহনের পক্ষে মো. দেলোয়ার এই অর্থ সংগ্রহ ও পৌঁছে দেওয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।
স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রূপগঞ্জের বরপা ও চনপাড়া রুটে চলাচলকারী সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ডেমরা বালুরঘাট এলাকায় চলাচলকারী প্রায় ৯০টি বালুবাহী ট্রাকের কাছ থেকে প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। ডেমরা বাঁশেরপুল এলাকার তাজ টিম্বার স-মিল এবং মীরপাড়া মালা মার্কেটের বড় বড় স-মিলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাক ও লরি প্রবেশের ক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শাহ-রিয়ার স্টিল রোলিং মিলস, জহির স্টিল রোলিং মিলস এবং কোনাপাড়া এলাকার বিভিন্ন ইটভাটার মালামাল বহনকারী পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান থেকেও মাসিক চুক্তিতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচলকারী কাগজপত্র ও ফিটনেসবিহীন লেগুনা সচল রাখার বিনিময়ে প্রতি রুট থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতা ‘কাউয়া খালেক’-এর ছেলে মো. সোহাগ জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এই ধরনের ‘নীরব চাঁদাবাজি’ আরও বেশি সক্রিয় ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ডেমরা থানা এলাকার সাধারণ পরিবহন মালিক, চালক ও সিএনজি চালকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং আইনি ভয়ভীতি দেখিয়ে এই নিপীড়নমূলক চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত ১১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪:৫৭ মিনিটে অভিযুক্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সুলতানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। চলবে.!
বিস্তারিত আসছে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।
Leave a Reply