স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
সপ্তাহ জুড়ে অতিবৃষ্টিতে পুরো চট্টগ্রাম পানিতে ডুবে আছে। ব্যহত মানুষের জীবন যাপন। থমকে গেছে মানুষের কলতান ও দৈনন্দিন কাজের রুটিন। সরকারি অফিস আদালত চালু থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিছু কিছু চালু ও সচল থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পুরো চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি নানা ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিকার বঞ্চিত শিশু বিদ্যালয় বন্ধ নেই। ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টিতেও থেমে নেই বৃষ্টির বিদ্যালয়।
আজ ১০ জুলাই বিকেলে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানাধীন লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির মুখে অধিকার বঞ্চিত শিশু ফাউন্ডেশনের পরিচালিত অধিকার বঞ্চিত শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি প্রতিদিনের মতো আজও বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার অবৈতনিক ও ফ্রি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিকার বঞ্চিত শিশু ফাউন্ডেশনের বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। চারদিকে বৃষ্টি হলেও বৃষ্টি আনন্দ ও উচ্ছাসে শিশুদের পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টির কাছে অতিবৃষ্টির পরও পাঠদান করছেন তা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সপ্তাহে দুদিন শুক্রবার ও শনিবার বিকাল তিনটায় থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এ ফ্রি ও অবৈতনিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হয়। এখানে ৭০ জনের মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের নিয়মিত সপ্তাহে দুদিন পাঠদান করা হয় এবং তারা নিয়মিত আসেন।
কথা বলতে গিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি আরও বলেন, আমরা শুধু পড়াই না, তাদের শিক্ষা জীবনের সহায়তাও করি।তাদের খাতা, কলম, পেন্সিল, বই, গাইড, নোটবুক দিয়ে সহযোগিতা করা হয় এবং বিভিন্ন মেধা বিকাশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যবস্হা করা হয়। আমাদের এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা কৃতিত্ব হচ্ছে এবং পুরস্কারও অর্জন করে।
অধিকার বঞ্চিত শিশু বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মোমেন মোল্লা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও সময়মত চলে আসে। ঝর বৃষ্টি যা হোক, তারা নিয়মিত চলে আসেন। আমরা শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে পাঠদান করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের একটা শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি রয়েছে ও পাঠদানের জন্য ৬ জন শিক্ষকও রয়েছে। আমরা একটু সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেবো।
বৃষ্টির সাথে কথা বলতে বলতে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের গানে গানে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো, তা টেরই পাইনি। কথা বলার শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস নিহা বলেন, আমাদের মেমরা আমাদের খুব ভালোবাসে, ভালো করে পড়ায়। আমাদের খোঁজ খবর নে। পড়ার শেষে নাস্তা দে। খাতা কলম কিনতে না পারলে আমাদের কিনে দেন। আমাদের মেম বৃষ্টি আপু অনেক ভালো।
এসময়ে আরও দেখা যায় সংগঠনের উপদেষ্টা আয়েশা সিদ্দিকা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন ভূঁইয়া, শিক্ষক মোহাম্মদ রিফাত জানান, একটু সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের পরিধি বাড়ানো সম্ভব। আমরা একটু সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা চাই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিত্তশালীদের।
আলাপ করতে করতে সন্ধ্যার হাতছানি, সূর্য দেখা না গেলেও ঘড়ির কাঁটার সময় দেখে বুঝতে আর বাকি নেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে এবার ছুটির পালা। সবার হাতে হাতে টিফিন বা নাস্তার পেকেট।
সবার মুখে আনন্দের সুর, আজ আমাদের ছুটি অভাই আজ আমাদের ছুটি।
আজকে একটা সময় নতুন করে দেখা হলো, নতুন গন্তব্যে গিয়ে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বৃষ্টি যতই পরুক,কিন্তু জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি থামবার নয়। বৃষ্টির মাঝেও বৃষ্টি থেমে নেই।
Leave a Reply