মোঃ রেজাউল করিম, স্টাফ রিপোর্টার | শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ শান্তিগঞ্জ উপজেলার সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানে চারজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া অভিযোগ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আরও একজনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানের পর স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সরকারি খাসজমি, খাল, মাঠ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ রক্ষায় তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও শান্তিগঞ্জ উপজেলার আমদাবাদ মৌজার সরকারি খাসজমি নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি দখল, মাটি কেটে ভরাট, বসতভিটা তৈরির চেষ্টা এবং বন্দোবস্ত পাইয়ে দেওয়ার নামে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খেলার মাঠ, খাল ও অন্যান্য খাসজমি এখনও পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়নি। বর্ষা শেষে আবারও এসব স্থানে দখল ও ভরাটের আশঙ্কা করছেন তারা। তাই শুকনো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পুরো এলাকা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি নিজেদের ভূমিহীন পরিচয় দিয়ে সরকারি বন্দোবস্ত পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ লেনদেনের চেষ্টা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, জাকারিয়া আহমেদ স্বাধীন, সে নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন, বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খেলার মাঠ, খাল ও খাসজমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা উচিত। তাদের মতে, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply