এম রাসেল সরকার;
রাজধানীর মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান ফটকের অদূরে এক যুবককে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে একদল ছিনতাইকারী। আহত যুবক ওই হাসপাতালেরই এমআরআই শাখার প্রধান টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের সামনে বিশ্বরোড এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম মামুন মোল্লা (৩০)।
বর্তমানে তিনি মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও শরীর ও হাত-পায়ে মারাত্মক জখম রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ডিউটি শেষে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বিশ্বরোডের দিকে যান মামুন মোল্লা।
এ সময় একটি ইজিবাইকে করে আসা একদল ছিনতাইকারী আকস্মিকভাবে তার গতিপথ রোধ করে। মামুন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ধারালো চাপাতি বের করে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় মামুন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা মানিব্যাগ, নগদ টাকা ও মুঠোফোন (মোবাইল) ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ইজিবাইকযোগে পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মুগদা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
ঘটনার পর মুগদা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, মামুনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ভুক্তভোগী মামুন মোল্লার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব না হলেও, ঘটনার পরপরই তিনি সহকর্মীদের জানান, তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলো। হঠাৎ ইজিবাইক থেকে ৩-৪ জন নেমে তাকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মোবাইল আর মানিব্যাগ টান দেয়। তিনি হাত দিয়ে ধরে রাখলে একজন সরাসরি চাপাতি দিয়ে কোপাতে শুরু করে।”
মামুনের এক সহকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে যদি রাত সাড়ে ৮টায় একজন হাসপাতালের কর্মচারী এভাবে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ইজিবাইকটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এলাকাবাসীর বলেন, মুগদা বিশ্বরোড ও গ্রিন মডেল টাউন সংলগ্ন এলাকায় ইদানীং ইজিবাইক ও রিকশা ব্যবহারকারী ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply