লুতুব আলি, কলকাতা
পাঁচ বছর আগে ফেসবুকের পাতায় শুরু হয়েছিল সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন। আজ সেই স্বপ্ন ৯৪ হাজার সদস্যের আন্তর্জাতিক পরিবার ‘শহরের বাগান’। রবিবার বর্ধমানের কালিবাজার আমতলা ডিস্ট্রিক্ট ক্যারাটে গ্রাউন্ডে সেই ভার্চুয়াল স্বপ্নই শিকড় ছড়াল মাটিতে। বিনামূল্যে ফুল-ফলের চারা বিলি আর বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলেন গ্রুপের প্রধান এডমিন, ইউটিউবার ও সমাজসেবী জাংজীত পাল।
বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এর পাঠানো গুণীজন এবং ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের সম্বর্ধনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা ১৮ জন এডমিনের নেতৃত্বে এই গ্রুপ এখন মাঠে নেমে অক্সিজেন ফেরানোর কাজ করছে।
কল্যাণীর কার্যকরী এডমিন প্রদীপ দাস বলেন, “শহরে জায়গা কম। তাই ছাদ, বারান্দা, টব যেখানেই হোক একটা গাছ লাগান। এই ছোট গাছই গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঠেকাবে।”
এডমিন পীযূষ মুখার্জি, সন্দীপ চ্যাটার্জি, বরুণ দে ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য রূপালী চ্যাটার্জী সারা বছর বিভিন্ন শহরে চারা বিতরণ করেন। এদিন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সদস্যরা জানালেন, ‘শহরের বাগান’ মানে দমবন্ধ শহরে একমুঠো অক্সিজেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বর্ধমান সদর প্যারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রলয় মজুমদার। তিনি পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।
কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক, রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত জাতীয় শিক্ষক ও শিক্ষারত্ন ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, “আজকের ফুলগাছ কাল মৌমাছি আনবে, পরাগমিলন হবে। কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য সব বাঁচবে। বৃক্ষরোপণ মানেই জীববৈচিত্র্য রক্ষা।”
পুষ্টিবিদ প্রলয় মজুমদারের কথায়, “‘শহরের বাগান’-এর এই মডেলই নীতিপ্রণেতাদের পথ দেখাবে।”
চিত্রশিল্পী ও এডমিন প্রদীপবাবু সদস্যদের উৎসাহ দেন। প্রধান এডমিন জাংজীত পাল বলেন, “ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে রুফটপ গার্ডেন করুন। দূষণমুক্ত পৃথিবী আমরাই গড়ব।”
আগত অতিথিদের বক্তব্য, এই গাছ পুজোয় লাগবে, মন ভালো রাখবে। সবাই গাছ লাগালে উষ্ণতা কমবে, অক্সিজেন বাড়বে।
রূপালী চ্যাটার্জী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান। চা-সন্দেশ দিয়ে শেষ হয় সবুজ দিনের শপথ।
Leave a Reply