নুরে আলম শাহ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা ক্যাম্পাসে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। মাদরাসা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাসান ত্ব-হার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, বাসস্ট্যান্ড আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটু, জেলা বিএনপির সদস্য হামিদুল্লাহ আল মামুন,
১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জুয়েল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক শরীফ প্রমুখ।
এছাড়াও স্থানীয় জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ এবং মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীগণ কর্মসূচীতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ পয়গাম আলি মাদরাসাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করে বলেন, “সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসাটি আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এটি আমাদের মুসলিম উম্মাহর একটি আবেগের জায়গা এবং এই অঞ্চলের ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে প্রসারিত করতে দীর্ঘকাল ধরে অবদান রেখে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট আলেম আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন সাহেব (রহ.) সহ যারা এর পেছনে অবদান রেখেছেন, তারা এই অঞ্চলকে আলোকিত করেছেন।”
তিনি জেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান,এলজিআরডি মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব ব্যক্তিগত জীবনে একজন শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে।
তিনি আমাদের ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন যেন জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হয় এবং কোনো শিশু যেন বিদ্যালয় থেকে ঝরে না পড়ে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ শুরু হয়েছে।”
মাদরাসার আধুনিকায়নে নিজের পরিকল্পনা ও প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষ করে তুলতে এই মাদরাসায় সাধারণ শিক্ষার কারিকুলাম আরও সমৃদ্ধ করা দরকার। আমার একটি বিশেষ প্রস্তাব থাকবে—মাদরাসার যে অবকাঠামো ও বিল্ডিং রয়েছে, তার সঙ্গে যদি একটি কারিগরি শিক্ষা শাখা সংযুক্ত করা যায়, তবে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে সরাসরি কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত সহায়ক হবে।”
পরিশেষে তিনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে একটি বড় ধরণের শিক্ষা সমাবেশ করার আহ্বান জানান, যেখানে জেলা প্রশাসনসহ সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে এই মাদরাসার শিক্ষার মান ও সুনাম আরও উজ্জ্বল করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মাদরাসা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করেন এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এমন পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান।
Leave a Reply