লুতুব আলি, কলকাতা
ব্রতচারী পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো বর্ধমানের উপকণ্ঠে বড়শুলে। পরিচালনায় ছিল বাংলার ব্রতচারী সমিতি এবং ব্যবস্থাপনায় বড়শুল ব্রতচারী সংঘ। অনুষ্ঠানের নান্দনিক সূচনা পর্বে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা ব্রতচারী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য তথা বড়শুল ব্রতচারী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ চন্দ্র মহাজন। এই জেলা সম্মেলন থেকে দাবি তোলা হলো পশ্চিমবঙ্গের স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে ব্রতচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ত্রিশের দশকে ব্রিটিশের নির্মম অত্যাচারে যখন বাঙালিরা চরম অত্যাচারিত ঠিক সেই সময়ে আই.সি.এস গুরুসদয় দত্ত বাংলার ব্রতচারী প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রতচারীর দর্শনকে তিনি মোট ১৬টি আলি-তে ভাগ করেন। জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দে দর্শনে মোড়া হয়। গুরুজি চেয়েছিলেন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সফল হতে গেলে দেশের মানুষকে শরীর ও মননে সাবলীলভাবে গঠন করতে হবে। ব্রতচারীর প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্তের ব্রতচারী মানুষের জীবন গঠন করতে কতটা প্রাসঙ্গিক সে সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ প্রমুখরা এ ব্যাপারে অনেক চিরন্তন কথা লিখে গেছেন। এ ব্যাপারে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ব্রতচারী জাতীয় পরিষেবা। প্রত্যেক দেশভক্ত বাঙালিরই একে সাহায্য করা উচিত। বাঙালির অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার এর লক্ষ্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ব্রতচারী হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল সম্প্রদায়কে একত্র করে ভারতের পুনর্গঠন করবে। এডি দ্বারা আমাদের দাবি এবং অধিকার সমস্ত জগতের কাছ থেকে ফিরে পাবে। আমরা গৌরব ও শক্তিতে বলিয়ান হব। এই সমস্ত বাণীগুলি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জেলা সম্মেলনের কক্ষে প্রদর্শন করা হয়। এই জেলা সম্মেলনে মনোজ্ঞ আলোচনাকে মোট চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। সেগুলি হল, সম্মেলনের শুভ সূচনা, সমাজ সংস্করণে গুরুজীর ভাবনা ও বর্তমান সময়ে গুরুজীর আদর্শের প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে গুরুজীর ভাবনা, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্রতচারীকে স্কুল-কলেজের পঠন-পাঠনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সম্মেলনে বাংলা ব্রতচারী সমিতির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বাণীজী, তড়িৎ সেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী, মহাদেব দাস, নব কুমার মল্লিক, বিশ্বজিৎ বণিক, গৌরাঙ্গ লাল বসু, অভি ঘোড়াই প্রমুখ।
Leave a Reply