1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আমতলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গোল্ডমার্ক পপস্ গ্রুপের নর্থ জোনের মাসিক সেলস মিটিং অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা ও চোলাই মদ গাইবান্ধার সাঘাটায় এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষনের শিকার, আটক ৩ পাঁচবিবিতে ঈদ পুনর্মিলনী ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে পথসভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত আমতলীতে বাসচাপায় প্রাণ গেল দুলাভাই-শ্যালকের, আহত আরও ১ বলাকা উদ্যান পরিদর্শনে মির্জা ফয়সল আমিন ও ইউএনও খাইরুল ইসলাম পাঁচবিবি বাজার মধুমাসের লিচুতে সয়লাব কালিয়াকৈরে বোয়ালী কেন্দ্রীয় মন্দিরে অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠান বিএনপি সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে,,,,,,, মজিবুর রহমান এমপি “শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল

“শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল

  • প্রকাশকাল: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই নারী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সংসারের অভাব-অনটন আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ প্রায় নিঃস্ব। এমন অবস্থায় শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, সেই স্মৃতিও মনে করতে পারেন না তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী জামাল হাওলাদার পেশায় একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের সহায়-সম্বল। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

অভাব এতটাই প্রকট যে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নদীতে মাছ ধরলেও অধিকাংশ মাছ বিক্রি করে দিতে হয় সংসার ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে। ফলে নিজেদের জন্য মাছ কিংবা মাংস খাওয়া যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

শেষ কবে মাংস খেয়েছেন— এমন প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যান জাহানারা বেগম। এরপর চোখ ভিজে ওঠে তার। তিনি বলেন, “মনে করতে পারি না বাবা, কবে মাংস খেয়েছি।”

সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া দুই কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না, তা জানতে ছোট ছেলে বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি। ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ির সঙ্গে কিছু মাংস খেতে দেন তিনি।

পাশে বসে সন্তানের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা বেগম। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য যেন ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অসুস্থতা, অভাব আর জীবনের সব কষ্টের কথা।

দীর্ঘদিনের কষ্ট আর বঞ্চনার মাঝেও সন্তানের মুখের হাসিই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কোরবানির সেই মাংস তাই শুধু একটি খাবার নয়, জাহানারা বেগমের পরিবারের জন্য ছিল ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য উপহার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ