1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ‘হলদে পাখি’ সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ কড়া হুশিয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ পালিত অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনায় উপকৃত হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ২০২৬ জুলাই সনদ আমাদের তৈরী,সংষ্কারটা আমাদেরই.. ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচীব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল দিনাপুর বীরগঞ্জরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের নির্মমতার শিকার স্বামী সোহেল ৪ থানার অভিযোগ করেও মিলছে না বিচার কুড়িগ্রামে এসএসবিসি প্রকল্পের আয়োজনে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থানীয় স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা সভা

​সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদী দোসর রনি গ্রেপ্তার

  • প্রকাশকাল: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

মো. রাসেল সরকার-
​ঢাকা ২০ মে, ২০২৬

​রাজধানীর প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায় সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, জালিয়াতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা তথাকথিত সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম রনিকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত কর্তৃক পরোয়ানা জারির পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯ মে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাগরিক টিভি’র যাত্রাবাড়ী থানা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে। তার এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম অপরাধ প্রবণ জোনের একটি বড় চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের গোমর ফাঁস হয়েছে।

​গ্রেপ্তারকৃত মো, রফিকুল ইসলাম রনি যাত্রাবাড়ী থানার নূর হাজী কমিউনিটি সেন্টারের (সেন্টু সেন্টারের পাশে অবস্থিত মিয়ার বিল্ডিং) বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোহর আলী গাজী এবং মাতার নাম আছিয়া খাতুন। ​মামলার বাদী এস. এম. কামাল পারভেজ হাইকোর্টে রনির বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অসাধু উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/২০৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত এই জালিয়াতি ও চেক প্রতারণার অভিযোগটি আমলে নিয়ে রনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম রনি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ ডেমরা থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে তিনি ‘রূপান্তর টেলিভিশন’ নামক একটি সরকারি অনুমোদনহীন ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। ​রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ‘নাগরিক টিভি’র আইডি কার্ড হাতিয়ে নেন রনি। এরপর গণমাধ্যমের পরিচয়পত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য বিস্তার করেন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকার আবাসিক হোটেলগুলো রনির মূল আয়ের উৎস। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদের প্রায় অর্ধেক আবাসিক হোটেলের চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব ‘অভি’ নামের এক যুবকের এবং বাকিগুলোর দায়িত্ব ‘সাজ্জাদ’ নামের আরেকজনের হাতে। রনি এই চক্রের মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন এবং সংগৃহীত চাঁদার বড় অংশ নিজের পকেটে ভরে বাকিটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের পেছনে খরচ করতেন।

​এছাড়া চকবাজার থেকে আসা নিষিদ্ধ পলিথিন ও অবৈধ মসলার সিন্ডিকেট চলত রনির ইশারায়। পলিথিন ব্যবসায়ী জলিলের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার এবং জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা মাসোহারা নিতেন রনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নাসিম সাহেবের সাথে রনির গভীর সখ্যতা ছিল। রাতের আঁধারে রনিকে সাথে নিয়ে এসি নাসিম অভিযানে বের হতেন। থানার সামনে দিয়ে যাওয়া অবৈধ পলিথিন, ভেজাল মসলা এবং জাটকা ইলিশের বড় বড় ট্রাক আটকে কাগজপত্র দেখার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। সম্প্রতি এমনই এক পলিথিন ও মসলার গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির ঘটনা ফাঁস হলে এসি নাসিমকে বদলি করা হয়। তবে তার বদলি হলেও রনির তৈরি করা ‘রামরাজত্ব’ ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট সচল ছিল। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় দণ্ডবিধির ২৯০ ধারার (জনউপদ্রব) অপরাধমূলক সাম্রাজ্য পরিচালনায় রনিকে অন্যতম মূলহোতা বা ‘মাস্টার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয়রা।

​গ্রেপ্তার এড়াতে এবং অর্থ উপার্জনের জন্য রনি দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করেছিলেন। একদিকে তিনি আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানি দিতেন, অন্যদিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর ভর করে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল যুবদল ছাত্রশক্তি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেন। মিথ্যা নিউজ করার ভয় দেখিয়ে তিনি ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যার ফলে প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।

​অপরাধ বিজ্ঞানী ও সমাজ বিশ্লেষক ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, রাজনৈতিক পরিচয় ও গণমাধ্যমের কার্ড ব্যবহার করে অপরাধীরা এভাবে ‘ক্রাইম সিন্ডিকেট’ পরিচালনা করছে। যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা এই ধরনের অপরাধীদের সাথে নিয়ে রাতে অভিযানে নামেন, তখন প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। রনির মতো ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি না করলে সমাজে চাঁদাবাজি এবং জালিয়াতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।”

​রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী আহমেদ রফিক বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসররা যখন রাজনৈতিক পরিচয় বদলে গণমাধ্যমের পরিচয়পত্রকে হাতিয়ার বানায়, তখন তা সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। ৫ আগস্টের পর যারা টাকার বিনিময়ে অপরাধীদের হাতে আইডি কার্ড তুলে দিয়েছে, সেইসব গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।রাজনৈতিক লেবাসধারী এই চাঁদাবাজদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে।

​পেশাদার সাংবাদিকদের ও স্থানীয়দের দাবি, ​যাত্রাবাড়ী এলাকার সাধারণ মানুষ ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে নাগরিক টিভির পক্ষ থেকে রনির আইডি কার্ড বাতিলসহ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিকতার পবিত্রতা রক্ষা এবং চাঁদাবাজমুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই ভুয়া ও ব্ল্যাকমেইলার সাংবাদিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ