এম রাসেল সরকার;
রাজধানীর প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে খোলস পাল্টে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একসময়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। যুবলীগ নেতা থেকে রাতারাতি বিএনপি নেতা বনে যাওয়া এবং পুলিশের হেফাজত থেকে রহস্যজনকভাবে আসামিদের মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক খোলস বদল: যুবলীগ থেকে বিএনপি সুজন হাওলাদার!?
অনুসন্ধানে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানা ৫০নং ওয়ার্ড যুবলীগের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সুজন হাওলাদার (ওরফে কালা সুজন) গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলেছেন। যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তারেক এবং ৫০নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি জিয়াউল ইসলাম দিপু (ওরফে ভাগিনা ফ্যান্সি দিপু)-এর ছত্রছায়ায় তিনি এখন বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টারেও তাকে বিএনপি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত বুধবার (৬ মে, ২০২৬) সকালে শ্রমিকদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে সানি ও নুরুজ্জামান নামে দুই চিহ্নিত চাঁদাবাজকে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির সময় জনতা হাতেনাতে ধরে থানায় সোপর্দ করে। কিন্তু কোনো এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যা নাগাদ তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যাত্রাবাড়ী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় জাকির নামের এক ‘হটলাইন’ কর্মীর কাছে ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সানি ও নুরুজ্জামানের ক্যাডার বাহিনী—কালা সুমন, যুবলীগ নেতা সুজন হাওলাদার (কালা সুজন) ও মাসুদ রানাসহ একদল সন্ত্রাসী জাকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।
সিসিটিভি ফুটেজেও এই হামলার ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাকির বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন “যখন কোনো রাজনৈতিক দল শুদ্ধি অভিযান না চালিয়ে অন্য দলের বিতর্কিত বা অপরাধী ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়, তখন মাঠ পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা অনিবার্য হয়ে পড়ে। ‘হাইব্রিড’ নেতাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।”
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, থানায় সোপর্দ করার পর গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী। এটি সরাসরি অপরাধীদের উৎসাহিত করে। পুলিশের এই ‘রহস্যজনক ভূমিকা’ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, নতুবা অপরাধ সিন্ডিকেট প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর কার নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—জননিরাপত্তার চেয়ে কি অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বড়? প্রশাসনের এই অবহেলার দায়ভার কে নেবে?
যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা এই দুই দলীয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা-চলবে.!
বিস্তারিত আসছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
Leave a Reply