নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
৮ই মে ২০২৬ ইং শুক্রবার, সকাল ৭টা থেকে নৌপুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ডহুরী খাল এবং খিদিরপাড়ার-নরসিংহপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫টি বাল্কহেড৷ ও একটি ড্রেজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ডহুরী খালে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু বহনে ব্যবহৃত ৫টি বাল্কহেড আটক করা হয়। আটককৃত বাল্কহেডগুলো হলো— এমবি মান্নান-১, এমবি মদিনা মনস, আলহাজ এ রহমান, Amade Top-2 এবং এমবি সরকার এন্টারপ্রাইজ।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাল্কহেডগুলোর চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেগুলো টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সীমান্ত এলাকায় ভিড়িয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পরে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বলগেটগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এদিকে একই দিনে খিদিরপাড়া-নরসিংহপুর এলাকায় প্রায় ৪ একর জমিতে পকেট কেটে অবৈধভাবে বালু ভরাটের অভিযোগে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে প্রশাসন ড্রেজার মেশিন চালু অবস্থায় পেলেও অভিযুক্ত ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে ড্রেজারসহ আনুষাঙ্গিক সব যন্ত্রপাতি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনা করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান। এ সময় নৌপুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি (মিতু) বলেন, “যেহেতু বাল্কহেডগুলো সদর উপজেলার পঞ্চসার হয়ে তালতলা (সিরাজদিখান), বালিগাও (টঙ্গীবাড়ী) এবং ডহুরী (লৌহজং) হয়ে বের হয়ে যায়, সেহেতু এককভাবে একটি উপজেলার পক্ষে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কষ্টসাধ্য। বিষয়টি যেহেতু চারটি উপজেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই জেলা সমন্বয় সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা আরও ফলপ্রসূ হবে।”
তিনি আরও জানান, নৌপুলিশকে তাদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
Leave a Reply