মোঃ জাহিদ হাসান।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা যেন আবারও একটি পুরনো সমস্যার মুখোমুখি—ফসলি জমি রক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনের নির্দেশনা কতটা কার্যকর? খিদিরপাড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে।
অভিযোগ উঠেছে, “নূর ফাতেমা জামে মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান” নামে একটি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রায় চার একরের বেশি ফসলি জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) একাধিক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন—অন্তত আপাতত থামল কৃষিজমি ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিনের ব্যবধানে আবারও একই স্থানে শুরু হয়েছে মাটি কাটা। এবার আরও বড় পরিসরে ড্রেজার বসিয়ে পেছন দিক থেকে মাটি তুলে সামনে ভরাট করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাওয়া ভিডিও ফুটেজেও দেখা গেছে—এলাকা ঘিরে রেখে ভেতরে অবাধে চলছে ড্রেজিং কার্যক্রম।
এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রশাসনের অভিযানের পরও কীভাবে আবার এই কার্যক্রম শুরু হলো?
স্থানীয়দের অনেকে সরাসরি অভিযোগ তুলছেন “অদৃশ্য শক্তি”র আশ্রয়-প্রশ্রয়ের দিকে। তাদের মতে, প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এভাবে কাজ চালানো সম্ভব নয় কোনো প্রভাবশালী মহলের সমর্থন ছাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে হতাশাও।
বিষয়টি শুধু আইন অমান্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও সংবেদনশীল একটি দিক—ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামের ব্যবহার। সচেতন মহলের মতে, মসজিদের নাম ব্যবহার করে ফসলি জমি নষ্ট করার প্রবণতা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এতে একদিকে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমি হারিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা।
পরিবেশগত দিক থেকেও বিষয়টি উদ্বেগজনক। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা ও ভরাটের ফলে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে, জলধারণ ক্ষমতা কমছে, এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি—শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করলেই হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা, যাতে একবার বন্ধ হওয়া কার্যক্রম আর পুনরায় শুরু করতে না পারে সংশ্লিষ্টরা।
লৌহজংয়ের এই ঘটনা একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন—“বন্ধের পর আবার শুরু” এই চক্র ভাঙতে না পারলে কৃষিজমি রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই অভিযোগের প্রতিকার করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারে।
Leave a Reply