শেখ মাহতাব ডুমুরিয়া খুলনা।
শনিবার বিকাল ৫টায় ডুমুরিয়া উপজেলা শহিদ জোবায়ের আলী মিলনাতন ব্র্যাক সিড এ্যাড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ এর আয়োজনে এক দিনের কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলার মেসার্স্য কৃষি ভান্ডারের প্রোভাইটার মোঃ আজহারুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবি মোঃ নাজমুল হুদা, ব্র্যাক সিডের আরএসএম মুস্তাফিজুর রহমান, সেলস অফিসার মোঃ জাহিদ হোসেন, সাদিকুর রহমান জুনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট
ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন সহ ডুমুরিয়া উপজেলার ৫০জন আদর্শ কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
ব্র্যাক সিড (BRAC Seed) কর্তৃক আয়োজিত আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল প্রয়োগ করে হাইব্রিড ধানের অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ বিষয়ক কর্মশালাগুলো মূলত কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ফলন ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। হাইব্রিড ধানের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর এই কর্মশালায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
নিচে কর্মশালার আলোকে আধুনিক চাষাবাদের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
সঠিক বীজ নির্বাচন ও শোধন হাইব্রিড ধানের ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক এবং মৌসুম অনুযায়ী সঠিক জাত (যেমন: ব্র্যাক হাইব্রিড ধান-২ বা ৫) নির্বাচন করা জরুরি।
বীজ শোধন: বীজবাহিত রোগ দমনের জন্য কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা।
অঙ্কুরোদগম: সঠিক তাপমাত্রায় সুষমভাবে বীজ জাগ দেওয়া।
আধুনিক বীজতলা ও চারা ব্যবস্থাপনা সুস্থ ও সবল চারা হলো অধিক ফলনের মূল ভিত্তি।
প্লাস্টিক ট্রে বা আদর্শ বীজতলা: চারা তোলার সময় যেন শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
চারার বয়স: হাইব্রিড ধানের ক্ষেত্রে সাধারণত ২১-২৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করা উত্তম।
রোপণ পদ্ধতি ও দূরত্ব অধিক ফলন পেতে চারা রোপণে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লাইন ও লোগো পদ্ধতি: সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি বজায় রাখা। এতে প্রতিটি গোছা পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস পায়।
চারার সংখ্যা: প্রতি গোছায় ১-২টি সুস্থ চারা রোপণ করা।
সুষম সার ব্যবস্থাপনা মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ফলন বাড়াতে গুটি ইউরিয়া ও সুষম সারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
NPK ও জৈব সার: শুধু ইউরিয়া নয়, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং দস্তা সারের সঠিক প্রয়োগ।
পর্যায় ভিত্তিক প্রয়োগ: ধান গাছের কাইচ থোড় আসার আগে শেষ কিস্তির পটাশ সার প্রয়োগ করলে দানার পুষ্টতা বাড়ে।
সেচ ও রোগবালাই দমন এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি: পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতি ব্যবহার করে পানি সাশ্রয় করা।সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM): কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার কমিয়ে পার্চিং (ক্ষেতে ডালপালা পোতা) এবং আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা।
ব্লাইট ও ব্লাস্ট নিয়ন্ত্রণ: হাইব্রিড ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা ও সঠিক ছত্রাকনাশক প্রয়োগ।
কর্তন ও সঠিক ফলন সংরক্ষণ ধানের ৮০ শতাংশ পেকে গেলে কর্তন করতে হবে। এতে ঝরে পড়া জনিত অপচয় রোধ হয় এবং গুণমান বজায় থাকে।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য:এই ধরণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের শেখানো হয় যে, শুধুমাত্র উচ্চফলনশীল বীজ নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই পারে হেক্টর প্রতি ফলন ২-৩ টন বৃদ্ধি করতে। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
Leave a Reply