কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। গত রাত (২২ এপ্রিল) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৫টি মামলার আসামি ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মো: আবুল কাশেম ওরফে নলা কাশেমকে একটি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের ‘ক্রাইম জোন’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরকে সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়ে। তবে সম্প্রতি নলা কাশেমের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র এলাকাটিতে পুনরায় আধিপত্য বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা করছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন এর নির্দেশনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মহিনুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম সুনির্দিষ্ট অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল ২২ এপ্রিল রাত ০৯.০০ ঘটিকার সময় জঙ্গল সলিমপুর অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২২ এপ্রিল রাত ০৯:৪৫ ঘটিকায় অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের চৌকস টিম দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্রটি পুলিশকে লক্ষ্য করে সংগঠিত আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। আভিযানিক দল অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে সন্ত্রাসীদের আস্তানাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী নলা কাশেমকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার অন্য সহযোগীরা গভীর জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো: আবুল কাশেম প্রকাশ নলা কাশেমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইন, হত্যা ও অন্যান্য মামলাসহ এবং সম্প্রতি দঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলা সহ সর্বমোট ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনায় জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা দমনে জেলা পুলিশ আপসহীন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় জানান একসময়ের দুর্ভেদ্য অপরাধী আস্তানা জঙ্গল সলিমপুরকে স্থায়ীভাবে সন্ত্রাসমুক্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, কোনোভাবেই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
Leave a Reply