কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪
লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের এক দিক দিয়ে লোক দেখানো অভিযান চালালে ও চোরচক্র আরেক দিক দিয়ে বালু চুরি ও মাটি বিক্রি করতে মাঠে নামে। এ যেন ‘চোর–পুলিশ খেলা’। লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ , চরম্বা , কলাউজান , পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও ফসলি জমি এবং টংকবতি , ডলু খাল ও ছোট ছোট খাল থেকে দিন রাত চলছে বালু ও মাটি লুট।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে উপরে উল্লেখি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখিত কালের বিভিন্ন অংশে কোনো প্রকার ইজারা ছাড়াই শ্যালো মেশিন বসিয়ে এবং এক্সক্লাবেটর দিয়ে বালু ও মাটি তোলা হচ্ছে দিন রাত। এই কাজে জড়িত আছে সরকারি ও বিরোধী দলের পাতি নেতারা । বালু ও মাটি উত্তোলনের স্থানে যেতে হলে যে সড়ক ব্যবহার করা হয় ওখানে সরকারি ও বিরোধী দলের পাতি নেতাদের চামচারা বসে থাকে। তাই প্রশাসনের কেউ গেলেই খবর চলে যায় পাতি নেতাদের কাছে। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সবাই উধাও হয়ে যায়। আরেক স্থান থেকে নতুন করে শুরু হয় মাটি ও বালু চুরি। আবার ও নতুন নতুন এলাকায় মাটি ও বালু উত্তোলনের সাথে স্থানীয় মাটি দেলোয়ার , মাটি শাহাবুদ্দিন , মাটি মমতাজ , মাটি আজম মাটি এরশাদ, মাটি জাহেদ, মাটি গফুর , মাটি দিদার , মাটি নাজিম , মাটি বেলাল , মাটি মহিউদ্দিন ,মাটি সোহেল মাটি মোজাফফর সহ অনেকে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চরম্বা কলাউজান পাহাড়ি ফরেস্ট এলাকার পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখিত মাটি খেকোদের সিন্ডিকেট। বিভিন্ন এলাকায় মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে সিন্ডিকেট। এসব এলাকার মাটি এক গ্রুপ কেটে নেওয়ার দায়িত্বে, আরেক গ্রুপ মার্কেটিং তথা বিক্রয়ের দায়িত্বে। মাটি কাটায় ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহারেরও অভিযোগ আছে।
আমিরাবাদ , চরম্বা, কলাউজা সচেতন মহল বলেন, খাল থেকে বালু উত্তোলন ও পাহাড়ের মাটি কাটার সাথে সিনিয়র নেতারা ও জড়িত থাকতে পারে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করলে ও উপজেলা প্রশাসন কোন প্রকার সহযোগিতা করছেন না এই বিষয়ে বিভিন্ন সময় গনমাধ্যমে নিউজ প্রকাশ হলেও ইউএনও এবং কমিশনার ভূমি নিরবতা পালন করছেন। সচেতন মহল বলেন, সম্প্রতি ইউএনও এবং এসিল্যান্ড অভিযান পরিচালনাকালে আমরা সহযোগিতা করেছি। ইউএনও এবং এসিল্যান্ড বলেছেন যেখানে মাটি কাটা বা বালু উত্তোলনের খবর পাচ্ছি সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের অভিযানের সময় গোপনীয়তার চেষ্টা করে অপরাধীদের আটকের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রায় অভিযানে অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে অপরাধীদের আটকের বিষয়ে আরো পরিকল্পিত ও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে অন্যদিকে সচেতন মহল বলেন ইউএনও এবং এসিল্যান্ডএর গাড়ি চালক মোটা অংকের টাকা নিয়ে অভিযানের পূর্বে মাটি খেকোদের কাছে সংবাদ পাঠিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন পরিবেশ রক্ষা এবং আইন–শৃঙ্খলার উন্নতির বিষয়ে আমরা আপসহীন। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
Leave a Reply