লুতুব আলি, কলকাতা
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসেবে এদিন কলকাতার কলেজ স্কোয়ার্ড থেকে একটি বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বজন। ১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের একটি সুতো কারখানায় নারী শ্রমিকদের উপর অমানবিক মজুরি বৈষম্য, অমানবিক কর্ম ও পরিবেশের বিরুদ্ধে সেখানকার কর্মরত নারী শ্রমিকেরা বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করেছিল। এই আন্দোলন সমগ্র পৃথিবীব্যাপী রেখাপাত করে। এই আন্দোলনের ফসল হিসেবে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নারী দিবসের প্রাসঙ্গিকতা এখনও অপরিসীম। সমাজে নারীর অবস্থান উন্নয়নে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং বৈষম্য দূরীকরণে এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নারীরা এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ক্রীড়া সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পাদক চন্দ্রনাথ বসু এদিন পদযাত্রা চলাকালীন বলেন, এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নারী নির্যাতন, বৈষম্য এবং কর্ম ক্ষেত্রে সমান সুযোগের অভাব এখনো অনেক নারীর পথ চলাকে অনেক সময় কঠিন করে তোলে। তাই নারী দিবস কেবল উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে নারী পুরুষ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এদিন কলেজ স্কোয়ারে পদযাত্রা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে বিদ্যাসাগর মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। এই মাল্য দানে অংশগ্রহণ করেন কবি আরণ্যক বসু, বরুণ চক্রবর্তী, সিরাজুল ইসলাম ঢালী, মুকুল চক্রবর্তী, ড. অমর ঘোষ, ড. সোহিনী চক্রবর্তী। পদযাত্রায় সংগীত পরিবেশন করেন ড. দীপা দাস, অঞ্জলি বেলেল, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, ঝিমলি চক্রবর্তী। কবিতা পাঠ করেন প্রত্যুষা চট্টোপাধ্যায়, সীমা সোম, ড. সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন কনীনিকা রায় চৌধুরী। পদযাত্রার অনুষ্ঠানে সেরা বঙ্গ নারীর সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কবি জয়তী চক্রবর্তী ও সঙ্গীতা বসু রায় কে। পদযাত্রার অনুষ্ঠানটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন পৌলভি মিশ্র, সায়ন বেরা।
Leave a Reply