নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর এক ইফতার পার্টির অনুষ্ঠানে গনঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ও মোবারক বাদ জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন বিগত ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি এ পর্যন্ত যত সরকার ক্ষমতায় এসেছে প্রত্যেক সরকারের সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একটি করে মহল, সেই মহলের ইশারায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরী হয় এতে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বারে তখন সাধারণ জনগণ খুবই অসহায়ত্ব বোধ করে যা দেখার কেউ থাকেনা। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়, রোজার প্রথম দিনেই ঢাকা সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সকল জায়গায় ভোগ্য পণ্য সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা নিম্ন বিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয় ক্ষমতার অতিক্রম করেছে। আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যখন কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ে তখনোই অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে ঐ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে।কিন্তু এবারে তার ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানি থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদেরকে ঠকিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই বাজার সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীরা মিলে ভোগ্যপণ্যসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। দুদিন আগেই লেবুর দাম ছিল ২০-৪০ টাকা প্রতি হালি বর্তমানে ৬০-১২০ টাকা প্রতি হালি। বেগুন ছিল ৬০-৮০ টাকা প্রতি কেজি বর্তমানে ৮০-১০০ টাকা প্রতি কেজি। শসা ছিল ৫০-৭০ টাকা প্রতি কেজি বর্তমানে ৮০-১০০ টাকা প্রতি কেজি।পিঁয়াজএর দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা প্রতি কেজি বর্তমানে ৫৫-৬০ টাকা প্রতি কেজি। ব্রয়লার মুরগী ছিল ১৬০-১৭০ টাকা প্রতি কেজি বর্তমানে ২০০-২২০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া কাঁচামরিচ ধনিয়া পাতাসহ সকল প্রকার সবজি মসলা চিনি আখের গুড় মুড়ি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে আর ইলিশ মাছ গরুর মাংস খাসির মাংস আগের দামেই নিম্ন বৃত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ ক্রয় করতে পারত না বর্তমানে এগুলোর মূল্য বৃদ্ধি হওয়ার কারণে নিম্ন বৃত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকের ক্রয় সীমার বাহিরে । এক কথায় সকল মাল বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি আছে তবুও কৃত্রিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এর মূল কারণ হল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের নীতি ও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে।গণঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার নবনির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন পবিত্র মাহে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের আয় অনুপাতে চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানোর জন্য আহ্বান করেন।
গণঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার আরো একটি বিষয়ে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সেটি হলো প্রতি বছর দুটি ঈদের নামাজ পরিবারের সংঙ্গে একসাথে পড়ার জন্য প্রায় সবাই গ্রামের বাড়ি যায় সেই সুযোগে অসাধু গাড়ির মালিকগণ গাড়ির ভাড়া প্রায় দ্বিগণ বৃদ্ধি করে থাকে। ঈদের কারণে গাড়ির খরচ আগে যা ছিল বর্তমানে একই থাকে কিন্তু যাত্রী আগে যে পরিমাণ ছিল ঈদের কারণে অনেক গুণ যাত্রি বেশি হয় ফলে গাড়ির মালিকগণ আয়ও বৃদ্ধি পায় তারপরেও টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয় এবং যাত্রীদের হয়রানি করা হয় যাহা আইন সম্মত নয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বটে। গাড়ির মালিকগণ কোনভাবেই টিকেটের নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করতে না পারে এবং যাত্রী হয়রানি করতে না পারে তার জন্য সে বিষয়ে আগে ভাগেই নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান। কোন সিন্ডিকেট ও অসাধু গাড়ি মালিক পূর্বের নির্ধারিত মূল্যেই যেনো টিকেট বিক্রি করতে বাধ্য থাকে সেই মতে আইন প্রনয়ণ ও বাস্তবায়নে করার ও আহ্বান জানান৷ সরকার দুর্নীতি দমনের যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সরকারের প্রতি গণঅধিকার পার্টি পিআরপি ও জাতীয় জোটের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।
উক্ত ইফতার পার্টি অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার আরোও বলেন পবিত্র রমজান মাস ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে হোটেল রেস্তোরাঁ ও চা স্টল মালিকদের ব্যবসায় সংযমী হতে হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অন্য মাসের তুলনায় রমজানে কম লাভ করলে সওয়াব বেশি পাওয়া যাবে। প্রতিটি দোকানে নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিনের মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়ের পাঁকা রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তা অধিকার কে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করার জন্য আহ্বান জানান ।
Leave a Reply