1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছায়ানীড়ের পরিচালনায় ভাষা কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক শ্যামাপ্রসাদচক্রবর্তীর শুভ জন্মদিন! খুলনাবাসী একটি বিপদের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন — মজ্ঞু চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাজনীতিতে আসার গল্প: সংগ্রাম, আদর্শ ও জনসেবার প্রত্যয়ে রাইস হাসান তারেক ​ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবির উদ্যোগে মাসব্যাপী “ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়ারিং প্রশিক্ষণ” শুরু বিএনপিকে হেয় করতেই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে জামায়াতঃ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সুন্দরবনে ২১ জেলে নিখোঁজ, পাঁচ দিনেও মেলেনি সন্ধান কন্যাশিশু দিবস আজ: বোঝা নয়, সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি ও দেশের সম্পদ কন্যাশিশু ২৫ বছর ধরে মেধার সন্ধানে মুকুন্দপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, ৩১ অক্টোবর মেধাবৃত্তি পরীক্ষা রাজশাহীতে নকল ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ

কন্যাশিশু দিবস আজ: বোঝা নয়, সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি ও দেশের সম্পদ কন্যাশিশু

  • প্রকাশকাল: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।

আজ ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি: জাতীয় কন্যা দিবস। একটি কন্যাশিশুর জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বপ্নপূরণের অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। কন্যাশিশুকে কেবল পরিবারের দায়িত্ব কিংবা বোঝা হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে দেখার সময় এসেছে।

একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার চোখে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন। সে পড়াশোনা করতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অনেক কন্যাশিশু এখনো নানা বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সহিংসতা, হয়রানি, শিক্ষাবঞ্চনা ও সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হয়। কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও নিরাপত্তাহীনতা, আবার কোথাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য শুরু হয় অনেক সময় পরিবার থেকেই। ছেলের পড়াশোনাকে বিনিয়োগ এবং মেয়ের পড়াশোনাকে খরচ হিসেবে দেখার মানসিকতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। অথচ একজন শিক্ষিত ও আত্মনির্ভর কন্যা ভবিষ্যতে শুধু নিজের জীবনই বদলায় না, একটি পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও আলোকিত করতে পারে।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়রানি প্রতিরোধ, অনলাইনে নিরাপত্তা এবং পরিবারে সচেতনতা—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

কন্যাশিশুর স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ না করে তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, ব্যবসা, খেলাধুলা কিংবা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জাতীয় কন্যা দিবস শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই দিনটি হোক আমাদের অঙ্গীকারের দিন—কোনো কন্যাশিশু যেন শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে পিছিয়ে না পড়ে। তার শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বপ্নের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, কন্যাশিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একজন শিশুকে শিক্ষিত করা নয়; বরং একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করার পথ তৈরি করা।

কন্যারা বোঝা নয়—তারা সম্ভাবনা। তাদের স্বপ্নের ডানা মেলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ