1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নরসিংদীতে শিবপুরে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর বৃদ্ধার ম-রদেহ উদ্ধার শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ সার বিতরণ বিলম্বে সড়ক অবরোধ ও ডিলারকে অবরুদ্ধ ‎যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরেছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বাকৃবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের ৩০তম ‘বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ’ কোর্সের উদ্বোধন মুখোসের আড়ালে ফেসবুকে ‘যৌন হয়রানির’ পোস্ট: রাস্তায় ধাক্কা লাগার ঘটনায় নতুন মোড় ! সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার ও কণ্ঠশিল্পী মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : অদ্ভূত শূন্যতা মধুপুরের পালবাড়ীতে আরিফের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি সীমান্তে মিলল নিখোঁজ শিশু শাকিলের মরদেহ নবীনগর সদর বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক গড়েয়ার গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে, সাইবার নিরাপত্তায় স্বপ্ন দেখছেন রিতু

সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার ও কণ্ঠশিল্পী মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : অদ্ভূত শূন্যতা

  • প্রকাশকাল: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অদ্ভূত শূন্যতা
-মাধুরী ব্যানার্জী

বাড়িটা হঠাৎ করেই যেন বড় হয়ে গিয়েছিল।
অরুণ জানত, বাড়ির আয়তন একটুও বাড়েনি। একই বারান্দা, একই বসার ঘর, একই জানালা। তবু মায়ের চলে যাওয়ার পর প্রতিটি ঘর যেন অচেনা দূরত্বে সরে গিয়েছিল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে অভ্যাসবশত সে রান্নাঘরের দিকে তাকাত। মনে হতো, মা হয়তো চা বানাচ্ছেন। তারপরই মনে পড়ত—মা নেই।
চায়ের কাপটা টেবিলে পড়ে থাকত। খবরের কাগজ খুলে রাখা হতো। কিন্তু কাউকে আর বলতে শোনা যেত না,
“চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, খেয়ে নে।”
অরুণের কাছে এটাই ছিল শূন্যতা।
কিন্তু একদিন শূন্যতাটা অদ্ভুত হয়ে উঠল।
রাত তখন প্রায় বারোটা। হঠাৎ রান্নাঘর থেকে কাপ রাখার শব্দ এল।
টং!
অরুণ চমকে উঠল।
ধীরে ধীরে রান্নাঘরে গিয়ে দেখল—মায়ের পুরোনো কাপটা টেবিলের ওপর রাখা। অথচ কাপটি সে আলমারির একেবারে ভেতরে তুলে রেখেছিল।
পরদিন আবার একই ঘটনা।
তারপর প্রতিদিন।
অরুণ ভয় পেতে শুরু করল। এক রাতে সে ঠিক করল, ঘুমোবে না। আলো নিভিয়ে বসে রইল।
রাত বারোটার কিছু পরে—
টং!
আবার সেই শব্দ।
অরুণ ছুটে রান্নাঘরে গেল।
কেউ নেই।
শুধু টেবিলের ওপর কাপটা রাখা।
কাঁপা হাতে কাপটা তুলে নিতে গিয়ে তার চোখ পড়ল নিচে রাখা একটা ছোট কাগজে।
কাগজে মায়ের হাতের লেখা—
“তুই খুব একা হয়ে গেছিস বাবা। নিজের সঙ্গে কথা বলতে শিখিস।”
অরুণ স্তব্ধ হয়ে গেল।
হঠাৎ মনে পড়ল—মা মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে এই কথাটাই বলেছিলেন। তখন সে ব্যস্ততার অজুহাতে কথাটা শুনেও শুনতে চায়নি।
সেদিন প্রথমবার অরুণ কাঁদল।
অনেকক্ষণ ধরে।
তারপর মায়ের কাপটা বুকে চেপে বলল,
“মা, আমি একা নই। তোমার কথা আমার সঙ্গে আছে।”
সেই রাতের পর আর কখনও কাপটা নিজে থেকে টেবিলে আসেনি।
কিন্তু অরুণ বুঝেছিল, শূন্যতা আসলে সবসময় কাউকে হারানোর নাম নয়।
কখনও কখনও শূন্যতা আমাদের ভেতরের সেই দরজাটা খুলে দেয়, যেখানে প্রিয় মানুষগুলো চলে গিয়েও থেকে যায়—স্মৃতি হয়ে, শিক্ষা হয়ে, আর নীরব ভালোবাসা হয়ে।
আর সেই কারণেই অদ্ভুত শূন্যতার মধ্যেও একদিন অরুণ খুঁজে পেল বেঁচে থাকার নতুন অর্থ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ