লুতুব আলি, কলকাতা
ব্রহ্মপুত্র ও বরাকের ফুঁসে ওঠা জলে ভয়াবহ অবস্থা আসামে। টানা বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র, সুবনসিরি, জিয়া-ভরালি, কপিলি, মানস, পুঠিমারি এবং বরাক নদীর জল বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বইছে। রাজ্যের ২১টির বেশি জেলা – ধেমাজি, লখিমপুর, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, যোরহাট, মাজুলি, বরপেটা, নলবাড়ি, নগাঁও, মরিগাঁও, কাছাড়, করিমগঞ্জ, ধুবড়ি, দরং, গোয়ালপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। শিবসাগর, মাজুলি ও লখিমপুরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, হাজার হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে আসামের দুর্গতদের জন্য হাত বাড়ালো পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার ঐতিহ্যবাহী বর্ধমান রাজ কলেজ এগিয়ে এলো। কলেজের জাতীয় সেবা প্রকল্প (এনএসএস) ইউনিটের উদ্যোগে ৮ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল শুক্রবার শিবসাগরের উদ্দেশে রওনা দিল।
গত এক সপ্তাহ ধরে ত্রাণসামগ্রী ও অর্থ সংগ্রহ অভিযানে নেমে এনএসএস ভলান্টিয়াররা মোট ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬৮৭ টাকা নগদ অর্থ এবং আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করেছে।
দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এনএসএসের প্রোগ্রাম অফিসার ডঃ ওম শঙ্কর দুবে। তিনি জানান, বন্যাকবলিত মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ত্রাণসামগ্রীর তালিকায় বিশেষভাবে রাখা হয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহার্য ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপল, ছাতা, টর্চ, শাড়ি, ধুতি, গামছা, সাবান, সার্ফ, শ্যাম্পু, স্যানিটারি প্যাড, বোরো প্লাস, স্কুল ব্যাগ, খাতা, পেন, বালতি, মগ-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
ডঃ দুবে বলেন, “বর্ধমান রাজ কলেজ পরিবার এবং বর্ধমানের মানুষের যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমরা পেয়েছি, আমরা আসলে সেই ভালোবাসাকেই আসামের দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।”
উল্লেখ্য, আসামের বন্যাদুর্গত এলাকায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছেছে। সেই কারণে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বর্ধমান রাজ কলেজের এনএসএস ইউনিট এবার মূলত গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষা উপকরণ নিয়ে যাচ্ছে।
এই মানবিক উদ্যোগে বর্ধমান রাজ কলেজ পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তনী এবং বর্ধমানের বহু সহৃদয় মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সংগৃহীত ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এনএসএসের স্বেচ্ছাসেবক দল শিবসাগরের বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে সরাসরি দুর্গত মানুষের হাতে তা তুলে দেবে।
Leave a Reply