প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী:
সরকার নির্ধারিত গ্যাসের দাম কমলেও নোয়াখালীর বিভিন্ন সড়কে কমেনি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া। বরং কিছুদিন আগে জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে যেসব রুটে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, গ্যাসের দাম কমার পরও সেই বাড়তি ভাড়া বহাল রয়েছে। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।
বিশেষ করে সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন সিএনজি স্ট্যান্ড ও আঞ্চলিক সড়কে যাত্রীদের কাছ থেকে আগের তুলনায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ৫ টাকা, কোথাও ১০ টাকা, আবার কোনো কোনো রুটে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাসের দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়ানোর দাবি ওঠে। কিন্তু গ্যাসের দাম কমলে সেই অনুপাতে ভাড়া কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘একতরফা নিয়ম’ চালু হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
একজন নিয়মিত যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“গ্যাসের দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ে, গ্যাসের দাম কমলে ভাড়া কমে না—এ কেমন নিয়ম? সাধারণ মানুষ কি শুধু বাড়তি ভাড়া দেওয়ার জন্যই?”
আরেক যাত্রী বলেন, “প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে সিএনজিতে যাতায়াত করতে হয়। ভাড়া কয়েক টাকা বাড়লেও মাস শেষে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বড় চাপ পড়ে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানির মূল্য, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের আয়সহ পরিবহন খাতের বিভিন্ন ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাসের মূল্য কমলে পরিবহন ভাড়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
সিএনজি চালকদের একটি অংশ অবশ্য দাবি করছেন, গ্যাসের পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ, মেরামত, টায়ার, শ্রম ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনা করেই তারা ভাড়া বাড়িয়েছেন। তবে যাত্রীদের প্রশ্ন—যদি সব খরচ বাড়ার কারণে ভাড়া বাড়ানো যায়, তাহলে গ্যাসের দাম কমার পর ভাড়া কমানোর বিষয়টি কেন বিবেচনায় নেওয়া হবে না?
সাধারণ যাত্রীদের দাবি, গ্যাসের দাম কমেছে—এখন সিএনজি ভাড়াও যৌক্তিক পর্যায়ে কমাতে হবে। অন্যথায় একদিকে জ্বালানি খাতে মূল্যছাড়ের সুফল মিললেও অন্যদিকে পরিবহন খাতে বাড়তি ভাড়ার বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কী ব্যবস্থা নেয় এবং গ্যাসের মূল্য কমার সুফল যাত্রীদের ভাড়ায় প্রতিফলিত হয় কি না।
জনগণের প্রশ্ন একটাই—
“গ্যাসের দাম কমলেও সিএনজি ভাড়া কমবে কবে?”
Leave a Reply