প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী:
নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে এক বাসায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নগদ টাকা আদায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ৪০ পিস ইয়াবা, নগদ ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজদী হক ম্যানশন ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, হক ম্যানশনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া নাঈমা আক্তারের বাসায় তিনজন ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর ও সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে পুলিশ ভবনটি ঘিরে ফেলে। অভিযানের সময় ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ৪০ পিস ইয়াবা, নগদ ২৭ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি আনোয়ার হোসেন টিটু (৩১)। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের জাহানাবাদ এলাকার ছোট খামার বাড়ির নুর আলমের ছেলে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি হক ম্যানশনের ওই বাসায় গিয়েছিলেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও তার আরও দুই সহযোগী প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় হত্যার ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং বাসা থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর দুই সহযোগী পালিয়ে যায়।
পুলিশ ভবনের নিচ থেকে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন টিটুর বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, চুরি ও জখমসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply