নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যার ধাক্কায় ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সঞ্চয়ে বিপর্যস্ত নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা ও সুদমুক্ত পুনর্বাসন ঋণ কর্মসূচি শুরু করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা। কক্সবাজারের রামু অঞ্চলের মরিচ্যা শাখায় সোমবার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনে ২ হাজার ৫৫০ জন সদস্যের মধ্যে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
আশা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ১ লাখ ৬ হাজার ৫০২ সদস্যের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে মোট ১০ কোটি ৬৫ লাখ ২ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত পুনর্বাসন ঋণ দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্যরা তাঁদের জমাকৃত সঞ্চয়ের শতভাগ উত্তোলনের সুযোগও পাবেন।
অনুষ্ঠানে আশার রামু সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার কফিল বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের সংকট কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য। নগদ সহায়তার পাশাপাশি সুদমুক্ত পুনর্বাসন ঋণ ও সঞ্চয় উত্তোলনের সুযোগ তাঁদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার ১৫টি শাখার ৩৭ হাজার ৯৬৪ সদস্যের মধ্যে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রামু আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় ১২ হাজার ৪৯৪ সদস্য পাচ্ছেন ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
মরিচ্যা শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস. এম. এনামুল হক, মধ্যম হলদিয়া পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলী আহমদ, আশা মরিচ্যা শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বিনোদ চন্দ্র দাস, শিক্ষা সুপারভাইজার জাহেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আশা’র কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আশা প্রায় ৪৭ বছর ধরে দেশের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। সংস্থাটির মতে, দুর্যোগের সময় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসন উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নগদ সহায়তা, সুদমুক্ত ঋণ এবং সঞ্চয় উত্তোলনের সুবিধা একসঙ্গে চালু রাখা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
Leave a Reply