মোঃ রাসেল সরকার,
ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও রাজধানীর মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় থামেনি অপরাধ সাম্রাজ্যের দৌরাত্ম্য। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রাজা ওরফে ‘শুটার বাপ্পি’ ও তার সহযোগীরা পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য ধরে রেখেছে।
কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অস্ত্রসহ বাপ্পি গ্রেপ্তার হলেও নেপথ্য থেকে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এখনো বহাল রয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়।
ঢাকার অপরাধ জগতের একসময়ের ত্রাস তানিম রেজা ওরফে শুটার বাপ্পির অপরাধ জগতের প্রধান সিঁড়ি ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। সুব্রতের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত বাপ্পি একসময় তার প্রধান সহযোগী হিসেবে অপরাধ সাম্রাজ্যে পা রাখেন। সুব্রত বাইনের নিয়ন্ত্রণাধীন আন্ডারওয়ার্ল্ডের মূল অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডার ছিল বাপ্পির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। আধুনিক ও ভারী অস্ত্রের এই বিশাল লাইনে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় বাপ্পি দ্রুতই ঢাকার অপরাধ জগতে একজন দুর্ধর্ষ শুটার ও প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তার অপরাধের এই সাম্রাজ্য মূলত মতিঝিল, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, মুগদা, মালিবাগ, আরামবাগ, ফকিরাপুল, মগবাজার এবং সবুজবাগ এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। একসময় এসব এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝে তার নাম ছিল এক আতঙ্কের নাম। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন শুটার বাপ্পি। এই সময়ের মধ্যে এলাকায় দরপত্র নিয়ন্ত্রণ (টেন্ডারবাজি) থেকে শুরু করে পরিবহন সেক্টর থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করতেন তিনি।
ক্ষমতার পালাবদল হলেও তার গড়া সেই সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজির কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ”আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি তিনটি পিস্তল ও একটি চাইনিজ কুড়ালসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করলেও ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফেরেনি। বাপ্পি কারাগারে থাকলেও তার প্রধান সহযোগী ও ক্যাডার বাহিনী ঠিকই নেপথ্য থেকে আগের মতো চাঁদাবাজি, হুমকি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।”
এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে বাপ্পি গ্রেপ্তার হলেও তার পুরো সিন্ডিকেট এখনো বহাল তবিয়তে সক্রিয় রয়েছে। মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের ভাগ্য বদলায়নি। বাপ্পি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার লোকজন নিয়মিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে এসে চাঁদা নিচ্ছে এবং চাঁদা না দিলে আগের মতো হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছি।” পরিবহন সেক্টর থেকেও নিয়মিতভাবে নির্ধারিত হারে চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও মালিকরা।
ব্যবসায়ী সমাজ ও এলাকাবাসীর দাবি জানান, অবিলম্বে এই চিহ্নিত ‘শুটার বাপ্পি’ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের সমূলে উৎপাটন এবং আইনের আওতায় আনা না হলে মতিঝিল জোনের বাণিজ্যিক পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও স্থায়ী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিস্তারিত আসছে পরবর্তী প্রতিবেদনে!
Leave a Reply