বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল যৌথ বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এবং জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মুক্তিজোটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (প্রচার) উত্তম কুমার ঘোষ স্বাক্ষরিত ৬ই জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে দেওয়া বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, আয় সংকোচন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে দিশেহারা, তখন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের ক্ষতস্থানে নতুন করে লবণ ছিটানোর শামিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও দায়হীনতার বোঝা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খাত সংশ্লিষ্ট অসঙ্গতি দূর না করে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের পকেট কাটার নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ অর্থনীতির প্রতিটি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পাবে এবং সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে।
মুক্তিজোট অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অপচয়ের শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জনগণের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জ্বালানি নীতি প্রণয়নের দাবি জানায়।
অন্যথায় দেশের শ্রমজীবী, কৃষক, ছাত্র, যুবক ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুর্বার গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
Leave a Reply