শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা
আজ রবিবার, ৩ মে; বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই দিনটির গুরুত্ব কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার স্মারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এবারের মূল সুর—”জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম”—একটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
একটি রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে কাজ করে। যখন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ওপর জনমানুষের নজরদারি প্রয়োজন হয়, তখন গণমাধ্যমই সেই তথ্যের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে।
দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করে। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বঞ্চনার কথা নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছে দেয় গণমাধ্যম।
মুক্ত গণমাধ্যম মানেই অনিয়ন্ত্রিত কোনো ব্যবস্থা নয়। স্বাধীনতার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে ‘দায়িত্বশীলতা’।
তথ্য যাচাই (Fact-checking): ২০২৬ সালের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ভুল তথ্যের (Misinformation) প্রবাহ রুখতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জরুরি। সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। ২. নৈতিক সাংবাদিকতা: ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীর প্রধান লক্ষ্য।
২০২৬ সালে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন যেমন সাংবাদিকতাকে সহজ করেছে, তেমনি কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বৈশ্বিক দাবি। পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কোনো চাপের কাছে আপস করতে না হয়।
জবাবদিহির সংস্কৃতি কোনো একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যেখানে রাষ্ট্র, সমাজ এবং গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬-এ আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—এমন এক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য বলতে পারবেন এবং সমাজ সত্যের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
“সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের অধিকার নয়, এটি সাধারণ মানুষের তথ্য জানার মৌলিক অধিকার।”
Leave a Reply