1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হারিয়ে যাওয়া ছেলের খোঁজে স্বজনরা ভোলাহাটে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠিত!! টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় নতুন মোড়, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য এক মুহূর্তেই শেষ! মায়ের সামনে বজ্রপাতে ছেলের মৃত্যু ময়মনসিংহে তামাক বিরোধী বিভাগীয় পর্যায়ে সেমিনার-২০২৬ অনুষ্ঠিত কাশিমনগর বাজারের পশ্চিমে কুলাইচাচর পূর্বপাড়ায় দুঃসাহসিক চুরি, ক্ষতিগ্রস্ত নবীন উদ্যোক্তা খুলনা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলায় ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মধুপুরের শালবন পুনরুদ্ধারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার মোবাইল কোর্টের কঠোর অবস্থান, অবৈধ ইটভাটায় বড় অঙ্কের জরিমানা

ময়মনসিংহে তামাক বিরোধী বিভাগীয় পর্যায়ে সেমিনার-২০২৬ অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশকাল: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

মকবুল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে তামাকের ভয়াবহতা নিরূপণ এবং এর সমাধানে করণীয় বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে তামাক বিরোধী সেমিনার-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৭ এপ্রিল সোমবার জেলা পরিষদ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি। এছাড়াও ময়মনসিংহ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত,বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজির প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় পর্যায়ের অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ,বিভিন্নশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে তামাকের ভয়াবহতা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রসহ সার্বিক বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উত্থাপন করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক, বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এবং মুক্ত আলোচনায় শিক্ষকসহ অন্যান্য আলোচকবৃন্দ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন।

সভায় প্রেজেন্টেশনে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) জানান, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য জর্দা, গুল, বিড়ি, সিগারেট সবই মাদক। মাদকে নিকোটিনসহ প্রায় সাত হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমাদের স্বাস্থ্য, শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে। মাদকের ধোঁয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, নিউরোটক্সিন পাওয়া যায়। নিউরোটক্সিন আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের জন্য বিষ। নিকোটিন মুহুর্তেই রক্তে পৌঁছায়, রক্ত থেকে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ করে এবং সাময়িকভাবে ভালোলাগা অনুভূত হয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ীভাবে এটি আমাদের হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। পরোক্ষভাবে অধূমপায়ীদের উপর বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা ও ছোট বাচ্চাদের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব ভয়াবহ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন অমান্য করলে দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা তিন মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

অন্যান্য আলোচকরা বলেন, প্রায় আট হাজার বছর আগে তামাক চাষ শুরু হয়, তখনকার দিনে এটাকে স্বর্গীয় বা পবিত্র মনে করা হতো। কালানুক্রমে বাংলাদেশের রংপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে এর চাষ শুরু হয় ১৮৬০ সালের দিকে। ময়মনসিংহ বিভাগে জামালপুর ও নেত্রকোণায় ৪৭ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। এতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ হয়, ফলে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এসব সার ও কীটনাশক পানি ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করছে। জলজ জীব বিশেষ করে মাছ রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, যেটা আমরা খেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যগত ত্রুটি দেখা যায়। করোনায় অধূমপায়ীদের চেয়ে ধূমপায়ীদের মৃত্যুর হার প্রায় তিনগুণ ছিল। সিগারেটের কাগজ তৈরি সেলুলোজ অ্যাসিটেট দিয়ে, যার ফেলে দেওয়া ফিল্টার পৃথিবীর শীর্ষ দূষক ও ক্ষতিকর বর্জ্য। এটা শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, পরিবেশগত সকল দিক থেকেই ক্ষতিকর। সমাজে প্রচলিত যে সিগারেট না খেলে ছেলেরা আনস্মার্ট। আমাদের এ ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে সিগারেট বিক্রি করসেই দোকানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

সভাপতি বলেন, মাদক গ্রহণকারী, উৎপাদন, প্রক্রিয়া ও বিপননের সাথে জড়িত সবাই এবং পরোক্ষভাবে তাদের পরিবারও এটার ভুক্তভোগী। যে মাদক খায়, সে সাময়িক ভালোলাগার জন্য তার ইনকামের একটা অংশ নষ্ট করে, এতে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নিজের ক্ষতি করছে। মানুষের জীবনের মূল্য টাকা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। ছেলে-মেয়ে উভয়কেই এ ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে যে সিগারেট খাওয়াটা স্মার্টনেস নয়। তামাক চাষ হাজার বছর ধরে হয়ে আসছে, এর বিকল্প অর্থকরী ফসল চাষে প্রণোদনা দিতে হবে । তামাকজাত পণ্যের একটা নির্দিষ্ট ভোক্তাশ্রেণি ও নির্ভরশীল উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী ও বিপননকারী রয়েছে। তাই হঠাৎ করে তামাক উৎপাদন বন্ধ হবে না। আমাদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। পরিবার হচ্ছে সন্তানের প্রথম শিক্ষালয়। পরিবার থেকে এ ধারণা তৈরি করতে হবে যে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য প্রকৃতি ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। আমাদের ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে হবে এবং নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে মোটিভেট করতে হবে। টিনেজ বয়সে শিশুরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে বেশি, তাই স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক পোস্টার, পাঠদান চালু করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগই সকল সমস্যার সমাধান নয়। স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজে এবং নিজের অধিক্ষেত্রের লোকজনকে সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ