1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভোগনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি , হত্যা করে শাণে রেসালাতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অবমাননা কখনোই বন্ধ করা যায় নাই যাবে না। আল্লামা ইমাম হায়াত ডুমুরিয়া চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন: খেলাধুলায় ফিরছে প্রাণ, তরুণদের মাদকবিরোধী মুজিবনগর দিবসে ন্যয়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার– মুক্তিজোটের রাজবাড়ীতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতকে উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৫ নরসিংদীর পলাশে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার এক। পাঁচবিবিতে মাদক সহ নারী আটক পাঁচবিবিতে এসএসসি পরীক্ষাদের বিদায় ভোলাহাটে জ্বালানী তেলের সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক! পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ধান ও আমের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যেতে বসেছে! ধান ও আমচাষীগণের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির আহবান!! বাঘায় ৩৯ জন শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ অনিশ্চিত বিএনপির নাম ব্যবহার করে পটিয়া কাঁচাবাজার দখলের চেষ্টা

মুগদা-মান্ডায় ‘কানা সুজন’ ও তার ‘ভাইয়া গ্রুপ’-এর ত্রাস: জিম্মি এলাকাবাসী

  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

এম রাসেল সরকার:
​রাজধানীর মুগদা ও মান্ডা এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সুজন ওরফে ‘কানা সুজন’ এবং তার পরিচালিত কিশোর গ্যাং ‘ভাইয়া গ্রুপ’।

এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহমেদ মানিকের অনুসারী ও ‘ডান হাত’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এই সুজন। প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​গত ১১ এপ্রিল (শনিবার) রাতে মান্ডা এলাকায় জহিরুল ইসলাম আরিয়ান মৃধা নামের এক যুবক ও তার পরিবারের ওপর সুজন বাহিনীর সদস্যরা নৃশংস হামলা চালায়। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আরিয়ানসহ এলাকার সচেতন যুবকরা জামাইটেক এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বিক্রি বন্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুজন, রোমান, আকাশ, মেহেদী ও আলামিনসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আরিয়ানের ওপর চড়াও হয়।

​হামলার বর্ণনা দিয়ে আরিয়ান মৃধা বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এলাকায় মাদক চলতে দেব না। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিচ্ছিলাম দেখেই সুজন ক্ষিপ্ত হয়। শনিবার রাতে রোমান সুইচগিয়ার দিয়ে আমার মুখ চিরে দেয়। সুজনের হাতে পিস্তল ছিল। মাইদুল ভাই আমাকে টেনে ভেতরে না নিলে ওরা আমাকে মেরেই ফেলত। ”​হামলাকারীরা কেবল আরিয়ানকেই নয়, তার বৃদ্ধা চাচির বুকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর মুগদাপাড়ার মদিনাবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. সুরুজের ছেলে সুজন নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীর লোক ছাড়াও রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। সে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দলে তার কোনো পদ-পদবি নেই। মূলত অপরাধ আড়াল করতেই সে এসব পরিচয় ব্যবহার করে আসছে।

​‘ভাইয়া গ্রুপ’ নামের এই গ্যাংটি এলাকায় নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মুগদা জান্নাতবাগ এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এই গ্রুপটি। সে সময় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তারা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করেছিল।

“কয়েকদিন আগে মানিকনগরে মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় সুজন হাতেনাতে ধরা পড়ে গণধোলাই খেলেও তার অপরাধমূলক তৎপরতা থামেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘চিপ বাবু’সহ কয়েকজন প্রভাবশালী গডফাদারের ছত্রছায়ায় ইয়াবা, আইস ও ফেন্সিডিলের রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে এই বাহিনী। সুজন এই সিন্ডিকেটের ‘মাঠ পর্যায়ের কমান্ডার’ হিসেবে পরিচিত। ​আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আরিয়ান মৃধা বলেন, “আমি মাদক বেচি না, চাঁদাবাজি করি না। এলাকার ভালোর জন্য কাজ করতে গিয়ে আজ আমি ও আমার পরিবার বিপন্ন। আমি এর বিচার চাই।”

​এ বিষয়ে মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, সুজনকে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। সে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। ওসি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক কোনো তাণ্ডবের বিষয়ে আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।”

​এলাকাবাসীর দাবি, চিহ্নিত এই মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক, অন্যথায় এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ