নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গভীর রাতে খবর রটে—অবশেষে ধরা পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তে তোলপাড়। জুলাই বিপ্লবের হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী ওরফে ‘ডিসকো শওকত’ ডিবি পুলিশের জালে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। কিন্তু সেই স্বস্তি উবে যেতে সময় লাগেনি। রাত পোহালেও মিলল না আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। উল্টো পরদিন দুপুরে খবর চাউর হলো—তিনি আটক হননি, অথবা রহস্যজনক কারণে ডিবি হেফাজত থেকে ‘হাওয়া’ হয়ে গেছেন!
রাতে অভিযানের খবর আর পরদিন দুপুরে তার এই ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া—মাঝখানের সময়টিতে আসলে কী ঘটেছিল? প্রভাবশালী মহলের তদবিরে কি হত্যা মামলার আসামিকেও ‘জামাই আদরে’ ছেড়ে দেওয়া হলো? নাকি পুরো বিষয়টিই ছিল সাজানো নাটক? এ নিয়ে এখন ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্র।
গ্রেপ্তার নাটকের নেপথ্যে
গত ২২ জানুয়ারি রাতে বিভিন্ন সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে, জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকা শওকত আলী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। কিন্তু নাটকীয়ভাবে পরদিন দুপুর গড়াতে না গড়াতেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। শোনা যায়, তিনি আর পুলিশ হেফাজতে নেই। হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজনকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন উঠলে তদন্তকারী সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
মামলার নথিতে ৫৪ নম্বর আসামি
অনুসন্ধানে দেখা যায়, শওকত আলী চৌধুরী বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার স্পষ্ট তালিকাভুক্ত আসামি। গত ৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়েরকৃত বাড্ডা থানার মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি) এর এজাহারে ৫৪ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম জ্বলজ্বল করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়:
গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বাড্ডা লিংক রোডে গুলিবর্ষণে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান শহীদ হন। ওই হত্যাযজ্ঞে হুকুমদাতা ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে অন্য আসামিদের সঙ্গে শওকতের নামও এজাহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জামিন নেই, তবু তিনি ‘রাজা’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০২ ধারার হত্যা মামলার আসামি হয়েও তিনি এখন পর্যন্ত আদালত থেকে জামিন নেননি। অথচ তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ব্যবসা সামলাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকার পাহাড়ে বসে তিনি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দিতে প্রভাবশালী মহলে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতের তোয়াক্কা না করে একজন ফেরারি আসামি কীভাবে ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পান বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন—তা বিস্ময় জাগিয়েছে আইন অঙ্গনেও।
শহীদের রক্ত কি বৃথা যাবে?
মামলার বাদী ও শহীদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন,……
Leave a Reply