1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. : notespanel :
  4. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
লাকসামে পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে ৪ জনের কারাদণ্ড, জেলহাজতে প্রেরন। ত্রিশালে নৃশংস হত্যা ক্ষেত দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল কৃষকের জাতীয় ক্রাইম সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন শেখ শাহীন কাশপিয়া তাসরিন পাঁচবিবির নতুন ইউএনও বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান ঠাকুরগাঁওয়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪, আশঙ্কাজনক ৩ জন রেফার্ড পাঁচবিবিতে সিধ কেটে গরু চুরি আমতলীতে সড়ক দূর্টনায় বিমান বাহিনীর এক সাবেক সদস্য নিহত চমকের দলবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার ২৭৭ কোটি বরাদ্দ দিয়েছে-ডাক্তার সাহাদাত বালিয়াকান্দিতে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দুর্যোগকালে নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতায় দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছে লাইট হাউজ

  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম জেলা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য পরিচিত। বন্যা, নদী ভাঙ্গন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানে নিয়মিত মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে। দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে নারী ও শিশু। নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, হাইজিন সামগ্রী, মানসিক সহায়তার অভাব তাদেরকে আরো বিপদে ফেলে। দুর্যোগের আঘাতে শুধু বাড়িঘর ভাঙ্গে না, ভাঙ্গে মানুষের মনও। দুর্যোগের সাথে সাথে আসে শিশুদের আতঙ্ক, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, পরিবারের ভেতর মানসিক অস্থিরতা। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লাইট হাউজ নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

১৯৯২ সাল থেকে সংস্থাটি নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রায় এক শতাধিকেরও বেশি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামের ৫টি উপজেলায় ৩৫টি ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের পাশাপাশি ৭০ জন প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
দুর্যোগকালে নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাশে আছে লাইট হাউজ। নিরাপদ পানি, খাবার স্যালাইন, স্যানিটেশন আর হাইজিন সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছে লাইট হাউজ।

ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে উঠান বৈঠক ও ওয়ার্কশপ। সেখানে কিশোরী, গর্ভবতী, বৃদ্ধাসহ সকল স্তরের নারীদের শেখানো হচ্ছে কিভাবে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে এবং জরুরী সময় কোন হাইজিন সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি নারী ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে স্যানিটারী ন্যাপকিনেরও ব্যবস্থা করেছে লাইট হাউজ। এতে করে নারীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী ও হয়ে উঠছে। প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়াররা ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে মানুষকে মানসিক চাপ মোকাবেলার কৌশল শিখাচ্ছেন।

বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সহায়তার লক্ষে গড়ে তোলা হয়েছে সাপোর্ট গ্রুপ , যেখানে তারা খোলামেলা কথা বলতে পারছে , পাচ্ছে সাহস আর ভরসা। মোবাইল অ্যাপ ও বার্তা প্রেরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সবার আগে সতর্ক করা হচ্ছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নের ভলান্টিয়ার সীমা খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, “আমরা দেখেছি দুর্যোগের সময় অনেক নারী স্বাস্থ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই প্রকল্প আমাদের শিখাচ্ছে কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হয় এবং নিরাপদ পরামর্শ দিতে হয় পাশাপাশি নারীরা নিজেই প্রস্তুত থাকতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।”
লাইট হাউজ প্রমাণ করেছে, দুর্যোগ কেবল শারীরিক ক্ষতির কথা নয়; এটি মানসিক চাপ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক অস্থিরতার সময় নারীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই কার্যক্রম কেবল ত্রাণ বা সহায়তা প্রদান নয়, বরং নারীদের ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শেষ পর্যন্ত, লাইট হাউজের এই প্রচেষ্টা কুড়িগ্রামের নারীদের জন্য শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করছে না, বরং তাদেরকে সক্ষম করে তুলছে যাতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে তারা নিজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং পরিবারের ও কমিউনিটির পাশে দাঁড়াতে পারে। এটি সত্যিকার অর্থেই একটি নতুন দৃষ্টান্ত এবং দেশের অন্যান্য দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় মডেল।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লাইট হাউজের প্রধান নির্বাহী হারুনুর রশিদ বলেন-” আমরা চাই মানুষ শুধু বাঁচুক তাই নয়, বাঁচার ভেতর আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাক। দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া কোন সহায়তায় পূর্ণতা পায় না। তাই লাইট হাউজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে যেখানে খাবার ও আশ্রয়ের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ