নুরে আলম শাহ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একটি ভারী পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. সবুজকে (৩০) আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও তিনজন পলাতক রয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাত সদস্যের একটি দল দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সামনে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর মহাসড়কে একটি ট্রাক থামানোর চেষ্টা করে। তবে ট্রাকটি সংকেত অমান্য করে দিনাজপুর শহরের দিকে চলে যায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ট্রাকটির পিছু নেন এবং সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি, দিনাজপুরের সহায়তা চান।
পরে বিজিবির নয় সদস্যের একটি দল সরকারি পিকআপ নিয়ে অভিযানে যোগ দেয়। যৌথভাবে ধাওয়া ও চ্যালেঞ্জ করার একপর্যায়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পুটিমারী গ্রামের জনৈক রফিকুজ্জোয়ার্দারের আবাদি জমির পূর্ব পাশে এবং ভাউলার হাট থেকে ঠাকুরগাঁওগামী পাকা সড়কের পাশে ট্রাকটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ট্রাকচালক মো. সবুজকে আটক করা হয়।
পরে ট্রাকের কেবিন ও চালকের দেহ তল্লাশি করে ছয়টি স্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাগে মোট ৬ হাজার ৫০০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ৬৫০ গ্রাম বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাকের চাবি, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ, একটি পুরোনো স্মার্টফোন এবং ৯০০ টাকা জব্দ করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।
আটক সবুজ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার চেশমারী এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কিশন রায় (২৫), মো. মাহাবুব হাসান মেহেদী ওরফে সেলিম (২২) এবং চামেলী বেগম পলাতক রয়েছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে আটক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নিয়মিত মামলা করেছেন।
Leave a Reply