এ আর হানিফ:
রাজধানীর ওয়ারী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র ও মাদক চক্রের কথিত গডফাদার ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে ‘অটো সজল’সহ তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন— মো. বাপ্পী (২৮), মো. হানিফ (৪০) ও মোছা. শামসুন্নাহার (৪৫)। 

আজ শুক্রবার সকালে ডিএমপি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গত ২ মার্চ মাদক উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের সময় ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ওই ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আসামিরা উল্লেখ করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত মূল অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিলেন এই ‘অটো সজল’। এরপর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারে ওয়ারী বিভাগের বিভিন্ন থানা-পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে।
পুলিশ আরও জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজল স্বীকার করেন যে, গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগ এলাকায় তাঁর একটি ভাড়া বাসায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক মজুত রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে সজলের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযানকালে স্বামীবাগের ওই বাসা থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রী হলো, বিদেশি পিস্তল ২টি (যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘TAURUS’ ব্র্যান্ড), ম্যাগাজিন ৪টি, তাজা গুলি ৭৭ রাউন্ড, হেরোইন ৫৯ গ্রাম, মাদক তৈরির উপাদান ৮৭ গ্রাম ‘মেডি’ (হেরোইন প্রস্তুতের কাঁচামাল)। নগদ টাকা২২,৯৬০ টাকা (মাদক বিক্রির লব্ধ অর্থ)। মোবাইল ফোন ৪টি (অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত)।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply