শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।
বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে খুলনার ডুমুরিয়া থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ থানার মানুষের কোনো অভিযোগ পুলিশের ওপর থাকবে না। জনগণের ভোগান্তি কমবে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের এ উদ্দ্যোগ।
একজন সার্কেল অফিসার এখানকার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। ৪৫৪ বর্গ কিঃমিঃ এলাকার ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৯ জন মানুষের বসবাস এখানে। এলাকাটিতে শান্তি ও শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করাই প্রধান লক্ষ্য।
মানচিত্রে অবস্থান অনুযায়ি উত্তরে ফুলতলা, যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুর, দক্ষিণে বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, পূর্বে নগরীর খানজাহান আলী, খালিশপুর এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরার তালা ও যশোরের কেশবপুর উপজেলা। ১৪ টা ইউনিয়ন এ উপজেলার পরিধি।
সূত্র জানায়, এক সময় ছিল চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা বলে খ্যাত। নিউ বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মনোরঞ্জন ঘোষাল ওরফে মৃনাল এখানকার আধিপাত্য বিস্তার করত। সব সরকারের আমলে কমবেশি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে ২০২৪ সালের ৬ জুলাই গুটুদিয়া এলাকায় সরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি খুন হয়। তিনি শাসক দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
অর্ন্তবর্তী কালীন সরকারের আমলে তৎকালীন ভুমি মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের গাড়ি লুট হওয়ার পর এটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়েছেন। জনগণকে তিনি অভয়ের বানি দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন। রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ডুমুরিয়া থানাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানকার মানুষ স্বাচ্ছন্দে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে। যানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহযোগিতার জন্য প্রক্রিয়া সহজতর করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ ইমরান বলেন, জিরো কমপ্লেন থানার কার্যক্রম শুরু হলে জনগণের কোনো অভিযোগ থাকবেনা। জনসেবা বাড়ানোর জন্য জনবল বাড়ানো এবং দক্ষ অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এখানে জনগণের ভোগান্তি কমবে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। এটি হবে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা।
জানতে চাইলে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন বলেন, উপজেলার জনগোষ্ঠির নিরাপত্তার জন্য থানার পাশাপাশি ৪ টি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি করে অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। জিরো কমপ্লেইন থানার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পাননি বলে এ প্রতিবেদককে জানান।
উল্লেখ্য, জেলার সবচেয়ে বৃহৎ পরিধির উপজেলা এটি। কৃষি ও চিংড়ি চাষের ওপর এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা নির্বাহ হয়। নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন।
Leave a Reply