মোঃ নুরুন্নবী পাবনা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশকে চিরদিন স্বাধীন রাখতে চাই। কোনো দেশ বা শক্তির গোলামী করতে চাই না। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে এই দেশে প্রকৃত শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি বলেন, “আজ হয়তো জালেম পালিয়েছে, কিন্তু জুলুম পালায়নি। সামনে যারা আবার জুলুম কায়েম করতে পারে, এমন কোনো দলকে আমরা আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না।”
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ফুটবল খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮ পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিকরা কোম্পানির লভ্যাংশের অংশীদার হবে, শোষণের অবসান ঘটবে।”তিনি বলেন, “নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।”কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কৃষকরা আর বঞ্চিত হবে না। ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এটাই জামায়াতের রাজনীতি।”
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের বলেন, “আধিপত্যবাদের দালালদের কারণেই দেশে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি অন্যের ঘাড়ে চড়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, কিন্তু এবার সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, “দেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তুলতে হবে। ইনশাল্লাহ, এবারের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত হবে।” তিনি পাবনা-১ আসনে ড. ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
প্রার্থী ড. ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, “সাঁথিয়ার সার্বিক উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব ইনশাল্লাহ।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের জেলা সম্পাদক মাওলানা আলমাস, পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, বেড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ডা. নাঈমুর রহমান খালেদ, বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মসলেম উদ্দিন, জাতীয় সাপ্তাহিক সোনার বাংলার চেয়ারম্যান এ কে এম রফিকুন্নবীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে সাঁথিয়া উপজেলার নাকডেমরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ও ধোপাধহ ইউনিয়নের সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মীসহ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামে যোগদান করেন।
Leave a Reply