
নুরে আলম শাহ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের খবর নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে জেলার মানুষকে। চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।
বর্তমানে ঠাকুরগাঁওবাসীর চিকিৎসার প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু রোগীর তুলনায় শয্যা ও চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালটি। শয্যা সংখ্যা ২৫০ হলেও প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। ফলে অনেক রোগীকেই ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে বারান্দা কিংবা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এছাড়া হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা নেই, নেই কিডনি ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থাও। ফলে জটিল রোগীদের বাধ্য হয়ে রংপুর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই সংকট দূর করতে দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এ দাবির পক্ষে বহুবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ হলে এখানকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা পাবে। এখন ছোট সমস্যা হলেও রংপুর বা দিনাজপুরে যেতে হয়।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফারজানা আক্তার মিম বলেন, “আইসিইউ না থাকায় অনেক রোগীকেই দূরে পাঠাতে হয়। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।”
স্থানীয় যুবক শামীম সরকার ও আরিফ হোসেন বলেন, “মেডিকেল কলেজ হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং জেলার শিক্ষার্থীরাও ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাবে।”
নার্সিং শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার সুচনা বলেন, “এখানে মেডিকেল কলেজ হলে আমাদের মতো নার্সিং শিক্ষার্থীরা উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে যেতে হবে না।”
সচেতন নাগরিক হিমেল বলেন, “মেডিকেল কলেজ স্থাপন হলে শুধু চিকিৎসা সেবার মানই বাড়বে না; শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা চাই দ্রুত এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হোক।”
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁওয়ে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মো. নাজমুল হোসেন জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে মানসম্মত একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এমন ঘোষণায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ঠাকুরগাঁওবাসী। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—ঘোষণার পর দ্রুত দৃশ্যমান কাজ শুরু হোক এবং বাস্তবে রূপ নিক বহুদিনের স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ।



Leave a Reply