নুরে আলম শাহ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//
“চাকরি নয়, সেবা”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির, দালালচক্র কিংবা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) রাত ৯ টায় জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রীল শেডে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই জেলা পুলিশ লাইন্সে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নির্বাচিত প্রার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন।
কোনো রকম ঘুষ বা সুপারিশ ছাড়া, মাত্র ১২০ টাকার সরকারি ফি জমা দিয়ে চাকরি পাওয়ায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে ছিল অন্যরকম উচ্ছ্বাস। অনেকের চোখেই দেখা যায় আনন্দাশ্রু।নিয়োগপ্রাপ্ত এক প্রার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন:“আমার বাবা একজন দিনমজুর। কোনো সুপারিশ বা টাকার জোর ছাড়াই যে পুলিশের চাকরি পাবো, তা কখনো ভাবিনি। এই স্বচ্ছ নিয়োগ দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন জানান, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত কঠোর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারি। দালাল ও প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার জানান, এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২,৬৫০ জন। বিভিন্ন শারীরিক ও প্রাথমিক টেস্ট গ্রহণের মাধ্যমে ২৫৮ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে ২৫০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার খাতাগুলো মূল্যায়নের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে চূড়ান্তভাবে ২৬ জনকে নির্বাচিত করা হয় এবং ৫ জনকে অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকায় রাখা হয়েছে।সফলভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—পঞ্চগড় জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (দেবীগঞ্জ সার্কেল) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সামুয়েল সাংমা।দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার।ফলাফল ঘোষণা শেষে পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, “আমরা শুরু থেকেই একটি যুগোপযোগী ও সর্ব স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া উপহার দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আজ যারা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে, তারা আগামী দিনে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা আবেগ প্রকাশ করে বলেন, যোগ্য ও সৎ তরুণদের এই অন্তর্ভুক্তি সমাজ তথা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। ব্রিফিং শেষে পুলিশ সুপার উপস্থিত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
Leave a Reply